You are currently viewing সাফল্যের জন্য কোনটা বেশি দরকার, মেধা না পরিশ্রম ?

সাফল্যের জন্য কোনটা বেশি দরকার, মেধা না পরিশ্রম ?

IIT  বা UPSC এর মতো কঠিন Competitive পরীক্ষা গুলো Crack করতে কোনটি বেশি প্রয়োজন মেধা নাকি পরিশ্রম? যখন জীবনে সফলতা অর্জন করার প্রশ্ন আসে তখন আমরা পরিশ্রমের থেকে মেধা কে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। ফলে পরিশ্রম করে হয়তো যে সফলতা অর্জন করতে পারতাম সেটা হাত ছাড়া হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন মেধা আর পরিশ্রম কোনটির গুরুত্ব বেশি ?
এই  প্রশ্নের উত্তর GRIT বই থেকে তুলে ধরেছি। লেখিকা ANGELA DUCK WORTH এই বিষয় নিয়ে অনেক গবেষণা করেন। তাঁর দীর্ঘ10 বছরের গবেষণা এর তিনি সফলতার যে EQUATION পান তা হলো-
TALENT(মেধা) × EFFORT(পরিশ্রম ) = SKILL(দক্ষতা) আবার,
SKILL ( দক্ষতা) × EFFORT (পরিশ্রম )= ACHIVEMENT(সাফল্য) সুতরাং,[TALENT(মেধা) × EFFORT(পরিশ্রম )] × 
EFFORT (পরিশ্রম )= ACHIVEMENT(সাফল্য)
                  এই সাফল্যের সমীকরণে মেধা আছে একবার আর পরিশ্রম আছে দুবার। অর্থাৎ জীবনের যে কোনো ক্ষেত্রে সাফল্য পাবার জন্য মেধার থেকে পরিশ্রম দ্বিগুন বেশি দরকার।

Where talent count once effort counts twice.

প্রতি বছর কয়েক লক্ষ ছাত্র ছাত্রী IIT বা UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। হয়তো একবার বা খুব বেশি হলে 2 ,3 বার ATTEMPT করে । কিন্ত একবার কি দুবার ফেল হবার পর খুব কম স্টুডেন্ট ই থাকে যারা এই লড়াই এ থাকে। বাকীরা হাত তুলে দেয়। এই ছাত্ৰ ছাত্রী রা শুরুতে অনেক উৎসাহ নিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে ছিল। কিন্ত বছর যত গড়াতে থাকে তাদের উৎসাহ তত কমতে থাকে। আর যখন উৎসাহ কমে যায় তখন সেই চেষ্টা টা চালিয়ে যেতে যা দরকার পড়ে তা হল জেদ আর পাগলামি। এই জিদ আর পাগলামি কেই লেখিকা নাম দিয়েছেন GRIT।

Enthusiasm is common but endurance is rare.

এবার দেখি লেখিকা কীভাবে দেখিয়েছেন। এই জেদ আর পাগলামি কিভাবে জাগিয়ে তোলা সম্ভব। এটার জন্য আমাদের চারটে জিনিস থাকতে হবে।

which is most important for success talent or effort
which is most important for success talent or effort

A. Interest :

যার পড়াশোনার প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নেই তার IIT বা UPSC ক্রাক করার চেষ্টা শুধু শুধু সময় নষ্ট করা। তার উচিত অন্যকিছু , যেটাতে তার ইন্টারেস্ট , সেটা নিয়ে কিছু করা। ইন্টারেস্ট জিনিসটা ভিতর থেকে আসে। এটাকে জোর করে DEVELOP করা প্রায় অসম্ভব।

B. Practice:

শুধু পড়াশোনার প্রতি ইন্টারেস্ট থাকলেই IIT বা UPSC Crack করা যায় না। তার সাথে দরকার practice। এমন অনেক student আছে যাদের পড়াশোনার প্রতি ইন্টারেস্ট আছে কিন্তু তাদের জীবনে টিভি, মোবাইল, সহ প্রচুর distraction থাকায় তাদের practice এর অভাব দেখা যায়। এই distraction তাদের মনকে divert করে দেয় এবং তাদের মধ্যে সেই জেদ আর পাগলামি জেগে উঠতে দেয় না।

C. Purpose:

মনে করি দুজন ছাত্র আছে। দুজনেই বড়ো হয়ে ডক্টর হতে চায়। দুজনেই মেধাবী। কিন্তু এদের একজন ডক্টর হতে চায় অনেক টাকা রোজগার করতে চায়। আর অন্যজন ডক্টর হতে চায় কারণ ছোট বেলায় সে তার মাকে বিনা চিকিৎসায় মারা যেতে দেখেছে। তাই সে ডক্টর হতে চায়, এবং রোগীদের সুস্থ করতে চায়। কি মনে হয়? এদের দুজনের মধ্যে কে তার স্বপ্নপূরণের পথে হাজার বাধা আসলেও দাঁতে দাঁত চেপে লেগে থাকবে? ঠিকই ধরেছেন অর্থাৎ, দ্বিতীয় জন। অর্থাৎ common sense যেটা বলে author এর করা scientific research সেটাই বলে। যখন কোনো লক্ষ্যপূরণের পিছনে purpose অনেক বড় হয় তখনই কারোর মধ্যে সেই জেড আর পাগলামি জেগে উঠতে দেখা যায়।

most important for success talent or effort
which is most important for success talent or effort

D. Hope:

যে যতই মেধাবী, যতই দক্ষ হোক না কেন তাকে আজ নয়তো কাল একবার হলেও জীবনে লক্ষপুরণের পথে ব্যর্থতার সম্মুখীন হতে হয়। আর এই ব্যর্থতার কারণে মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে যাওয়ার পর আবার উঠে দাঁড়ানোর জন্য যে শক্তিটা দরকার সেটার যোগান দিতে পারে একমাত্র আশা। নিজের প্রতি বিশ্বাস যে- আমি আবার একবার চেষ্টা করলে হয়তো সফল হতে পারবো- কারোর মধ্যে যদি এই আত্মবিশ্বাস, আশাটাই না থাকে তাহলে তার মধ্যে জেদ আর পাগলামি থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

                           অর্থাৎ, এখন খুবই স্পষ্ট যে সাফল্যের জন্য মেধা নয় পরিশ্রম একমাত্র চাবিকাঠি। তাই কেউ যদি নিজেকে তার স্বপ্নপূরণের অনুপযোগী বলে মনে করে শুধুমাত্র মেধা না থাকার কারণে তাহলে সে অত্যন্ত ভুল কাজ করছে। লক্ষ্য যাই হোক না কেন পূরণ করতে জেদ, পাগলামি যথেষ্ট। আর এই জেদ আর পাগলামিই অর্থাৎ ‘GRIT’ আমাদের মধ্যে পরিশ্রম করার শক্তি যোগাবে।

Leave a Reply