কিভাবে সময় নষ্ট করা বন্ধ করবেন?

এক্ষুনি একটা খাতা,পেন নিন আর মাঝখান থেকে একটা দাগ টেনে দুটো খপ তৈরি করুন। এবার একপাশে একটা normal দিনে সারাদিন আপনি যা কাজ করেন তার একটা list তৈরি করুন। আর অন্যপাশে আপনার জীবনের কি কি লক্ষ্য আছে, আপনি জীবনে কি কি অর্জন করতে চান তার একটা লিস্ট বানিয়ে ফেলুন। এবার বামদিকের লিস্টের সঙ্গে ডানদিকের লিস্টের একবার তুলনা করে দেখুন প্রতিদিন আপনি যা যা কাজ করেন তার মধ্যে কত কাজ আপনাকে আপনার স্বপ্নপূরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে আর কত কাজ আপনাকে আপনার স্বপ্নকে ছোঁয়ার থেকে আপনাকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে।কিভাবে সময় নষ্ট করা বন্ধ করবেন
                     হয়তো এখন প্রতিদিন আপনি যা যা কাজ করেন তার মধ্যে থেকে 80% কাজই অর্থাৎ দশটার মধ্যে আটটা কাজই আপনাকে আপনার স্বপ্নপূরণের থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে। তাই যদি আপনি জীবনে সফলতা পেতে চান তাহলে সবার আগে আপনার daily routine থেকে non essential কাজ করা বন্ধ করে essential কাজগুলো করা শুরু করুন। সেটা কিভাবে করবেন আর সেটা করলে আপনার exactly কি কি লাভ হবে সেটাই আমি Greg Mekeowin এর লেখা বই “Essentialism” থেকে share করবো।

1) You Always Have A Choice:

                     কিছু কুকুরদের নিয়ে তিনটি গ্রূপে ভাগ করে একটা experiment করা হয়। প্রতিটা গ্রূপের কুকুরদের একটা বড় বাক্সের মধ্যে রাখা হয়। এর মধ্যে প্রথম গ্রূপের কুকুরদের electric shock দেওয়া হয় ও সেই বাক্সের মধ্যে একটা হাতল রেখে দেওয়া হয় সেটাতে নাড়া দেওয়ার সাথে সাথেই electric shock off হয়ে যায়।


Second গ্রূপের কুকুরদের electric shock dewa হলো ও সেই বাক্সের মধ্যেও একটা হাতল রেখে দেওয়া হয়। তবে, হাতলটা অকেজো করে রেখে দেওয়া হয়। মানে হাতলটা নাড়ালেও electric shock off হয় না।
আর third গ্রূপের কুকুরদেরও একটা বাক্সের মধ্যে রাখা হয়। কিন্তু এদের কোনো shock দেওয়া হয় না।
                     এবার তিনটি গ্রূপের কুকুরদের একসাথে একটা বড় বাক্সের মধ্যে রাখা হয় ও বাক্সটা একটা divider দিয়ে দুটো পার্ট এ ভাগ করে রাখা ছিল। যার একটা পার্টে electric shock on করা ছিল আর অন্য পার্টে electric shock off করা ছিল।
                            দেখা গেল, প্রথম ও থার্ড গ্রূপের কুকুররা লাফ দিয়ে যে পার্টে electric shock off করা ছিল সেই পার্টে চলে গেল। কিন্তু সেকেন্ড গ্রূপের কুকুররা যাদের আগে অকেজো হাতলযুক্ত বাক্সে রাখা হয়েছিল তারা চুপচাপ যে পার্টে shock অন করে রাখা হয়েছিল সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলো। তারা electric shock এর হাত থেকে বাঁচার জন্য কোনো চেষ্টা করলো না।
         এর কারণ হিসেবে researcher রা বলেছেন যেহেতু আগেরবার অকেজো হাতলটা নাড়িয়ে বহু চেষ্টা সত্ত্বেও সেকেন্ড গ্রূপের কুকুররা কোনোভাবেই electric shock বন্ধ করতে পারেনি তাই তারা এবার সুযোগ থাকা সত্তেও আর চেষ্টা করলো না। যেটাকে psychology এর ভাষায় “Learned Helplessness” বলে।
                    
          এই একই জিনিস আমাদের মানুষের সাথেও হয়। বহুদিন ধরে চেষ্টা করা সত্ত্বেও যখন জীবনে সফলতা ধরা দেয় না তখন একটা সময়ের পর আমরা চেষ্টা করা বন্ধ করে দিই।
আমরা নিজেদের অসহায় মনে করে একটা victim mentality নিয়ে বাঁচতে শুরু করি। নিজের জীবনকে improve করার চেষ্টা করাই বন্ধ করে দিই। জীবনে হার মেনে নেওয়ার আগে, চেষ্টা করা বন্ধ করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন- কোথাও আপনিও সেই সেকেন্ড গ্রূপের কুকুরগুলির মতো “Learned Helplessness” এর স্বীকার হচ্ছেন না তো?

Wasting Time

2) Do Less But Better:

Southwest Airlines এর ঐতিহাসিক সফলতার পিছনে যে কারণে ছিল সেটা হলো- বাকি airlines গুলো যখন তাদের customer দের একসাথে বহু service offer করতে পারার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল যেমন- first class seat, special meal, advance seat reservation ইত্যাদি তখন southwest airlines ঠিক করেছিল যে তারা একসাথে এতকিছু করার চেষ্টা না করে একটাই জিনিস তারা সবথেকে ভালোভাবে করার চেষ্টা করবে আর সেটা হলো passenger দের point A থেকে point B তে নিয়ে যাওয়া।

কারণ এতকিছু একসাথে করার চেষ্টা না করে যদি তারা শুধু passenger দের কম খরচে আর কম সময়ে তাদের গন্তব্যস্থলে দিতে পারে তাহলেই সফলতা তাদের কাছে এসে ধরা দেবে। আর এই simple approch টা তারা ভীষণই seriously নেওয়ায় তারা ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করতে পেরেছিল। তাদের সফলতা দেখে continental airlines ও এরপরে এই একই জিনিসটা করার চেষ্টা করে।

কিন্তু তারা তাদের non essential facilaties যেমন- first class meal, seat reservation এগুলোকে বন্ধ করতে রাজি ছিল না। তারা মনে করেছিল যে তারা সবকিছুই একইসাথে চালিয়ে যেতে পারবে ফলে তারা “Continental Lite” নামে একটা sub brand creat করে budget friendly service offer করতে শুরু করে। কিন্তু একসাথে দুটো চালাতে গিয়ে তারা কোনোটাই সঠিকভাবে করে উঠতে পারে না এবং ফলে তাদের কয়েক million dollar এর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

                                আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা এই একই ভুল করি। Non essential কাজগুলোকে না ছেড়ে আমরা চেষ্টা করি essential আর non essential কাজগুলোকে একইসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার। ওর নিজেই নিজের জীবনে অসফলতা ডেকে আনি। যদি আপাতত আপনার জীবনে লখ্যভয় এক্সামে ভালো রেজাল্ট করা তাহলে এই যে অযথা বসে facebook scroll করা, whatsapp chat করা, রাত জেগে pubg খেলা এই সব non essential কাজ করা বন্ধ করে দিন।
                 যেমন এই বইয়ের author বলেছেন- “Essentialism” কথার অর্থ এই না যে কিভাবে বেশি কাজ শেষ করা যায় বরং এর অর্থ হলো-কিভাবে সঠিক কাজ শেষ করা যায়। এর অর্থ এটাও না যে খাটনি করতে চাইনা বলে কম কাজ করা বরং এর মানে নিজের সময় ও শক্তিকে সর্বোচ্চ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিনিয়োগ করে শুধুমাত্র essential কাজগুলি খুব ভালোভাবে শেষ করা, যাতে জীবনে সর্বোচ্চ সফলতা অর্জন করা যায়।কিভাবে সময় নষ্ট করা বন্ধ করবেন

Scroll to Top