Best Motivational Story In Bengali

আমরা অনেকেই মনে করি “যে যত পড়াশোনা করে, সে তত জীবনে উন্নতি করে”। Best Motivational Story In Bengali – কথাটি, হয়তো অনেকের জীবনের সাথে মিলে যায়। কিন্তু, এমন অনেকেই আছে যাদের জীবনের সাথে এই কথার কোনো মিল নেই। পড়াশোনা না জানা মানুষও জীবনে উন্নতি করতে পারে। একটা সাধারণ চাকরিওয়ালা লোকের থেকে একজন পড়াশোনা না জানা লোকও  অনেক টাকা,নাম, যশ উপার্জন করতে পারে।

শুধুমাত্র দরকার passion, interest, আর hard work। চলুন, দেখে নিই ঠিক এমনই একটা motivational গল্প। যে গল্পটি মন্দিরে ঘন্টা বাজানো থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া একজন সাধারণ মানুষের গল্প। 

গল্পটা হল একটা মন্দিরে সবাই salary সিস্টেমে কাজ করতেন। মন্দিরের পুরোহিত থেকে শুরু করে যিনি মন্দির পরিষ্কার করেন তিনি, অন্যদিকে যিনি আরতি করেন তার থেকে শুরু করে যিনি আরতির সময় ঘন্টা বাজান। তিনি পর্যন্ত salary সিস্টেমে কাজ করতেন। যিনি আরতির সময় মন্দিরে ঘন্টা বাজাতেন তিনি ঘন্টা বাজানোর সময় এতটাই ভগবানের মধ্যে বিলীন হয়ে যেতেন যে যারা সেসময় দর্শন করতে আসতেন, তারা মুগ্ধ হয়ে যেতেন। 

এবং সবার মনে সেই ঘন্টার আওয়াজ শুনে একটা পরম শান্তি আসতো। কিন্তু হঠাৎ মন্দিরের ট্রাস্ট্রি decision নিলেন যে এই মন্দিরে শুধুমাত্র তারাই কাজ করতে পারবে যারা শিক্ষিত এবং পড়াশোনা জানে। তো, সবাইকে একে একে ডাকা হলো এবং সবার মধ্যে যিনি মন্দিরে ঘন্টা বাজাতেন তিনি পড়াশোনা জানতেন না। তাকে ডাকা হলো ও বলা হলো যে “আপনি এই মাসের salary নিয়ে চলে যান। আমরা আজ থেকে আর আপনাকে কাজে রাখতে পারবো না।

best Motivational Story In Bengali
Motivational Story In Bengali

কারণ এই মন্দিরে আজ থেকে তারাই কাজ করবে যারা পড়াশোনা জানে।” এই কথা শুনে ব্যক্তিটি বললেন-“আমার ভক্তি দেখুন,আমার কাজ দেখুন,আমার পড়াশোনা দিয়ে কি যাই আসে?” তারা তার কোনো কথা শুনলেন না। এবং তারা তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে কাজ থেকে বের করে দিলেন।

এরপর থেকে যারা আরতি দেখতে আসতেন তাদের মনে সেরকম শান্তি আর আসতো না। কারণ সেই মানুষটির ঘন্টা বাজানোর মধ্যে যে ভক্তি ছিল তা আর অন্যকারো মধ্যে নেই। তখন ওই মন্দিরের কিছু ভক্ত মিলে তার বাড়িতে গেল। তাকে বললো যে “আপনি চলে আসার পর আরতির সময় আমরা সেরকম শান্তি অনুভব করতে পারছি না।

আপনি দয়া করে চলুন এবং আরতির সময় ঘন্টা বাজিয়ে আসুন।”  সেই ব্যক্তিটি বললো ” না আমি যেতে পারব না কারণ আমি যদি আরতির সময় ঘণ্টা বাজাতে যাই । মন্দিরের ট্রাস্টের মনে হবে যে আমি পয়সার লোভে যাচ্ছি।”  তখন সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলো যে সেই ব্যক্তিটিকে মন্দিরের সামনে একটি ছোট  দোকান করে দেওয়ার । এবং তাকে বলা হল যে “এবার তো আপনার কোন প্রবলেম হওয়ার কথা না।

আমরা সবাই মিলে আপনাকে একটি দোকান করে দিচ্ছি। আপনি সারাদিন ব্যবসা করবেন। এবং আরতির সময় এসে ঘন্টা বাজিয়ে দেবেন।  তারপর থেকে তিনি ব্যবসা করতে শুরু করলেন। এবং প্রতিদিন সন্ধ্যেবেলা আরতির সময় গিয়ে ঘন্টা বাজিয়ে আসত। এইভাবে চলতে চলতে ব্যক্তিটির একটা দোকান থেকে দুটো দোকান, চারটে থেকে ছয়টা দোকান, এইভাবে দোকান বাড়তে থাকল। এবং একসময় তিনি ওই এলাকার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন হয়ে গেলেন।

Motivational Story
Motivational Story In Bengali

কিন্তু এখনও তিনি প্রতিদিন ওই ভাবেই ভক্তি ভরে ঘন্টা বাজাতেন। তারপর বহু বছর কেটে গেছে। মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ড চেঞ্জ হয়ে গেছে।  মন্দিরটিকে নতুন করে সংস্কার করার সময় এসেছে। মন্দিরের ফান্ডে যা টাকা ছিল তাতে 10 লাখ টাকা কম পড়ছে। তখন ট্রাস্ট্রি বোর্ড ঠিক করলো , যে  তারা এই এলাকার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ীর কাছে যাবে।

মন্দির সংস্কারের জন্য 10 লাখ টাকার জন্য অনুরোধ করবে। তখন তারা ওই ব্যক্তির কাছে গেলেন। এবং মন্দিরের পুনসংস্কারের জন্য 10 লাখ টাকা চায়লেন। লোকটি কোন কথা না বলে তার ম্যানেজারকে 10 লাখ টাকার চেক নিতে বললেন।

এবং নিজে ওই চেকে টিপসই দিয়ে তাদের হাতে তুলে দিলেন। তার টিপসই দেওয়া দেখে ট্রাস্টিবোর্ডের লোকেরা একেবারে অবাক হয়। এবং তাকে বলল যে “আপনি কোন রকম পড়াশোনার না জেনেই  এত বড়  কোম্পানির মালিক। আপনি যদি পড়াশোনা জানতেন তাহলে আপনি কত বড় কোম্পানির মালিক হতেন।” তিনি হেসে উত্তর দিলেন “আমি যদি পড়াশুনা জানতাম তাহলে আমি এই সামনের মন্দিরে monthly  স্যালারি সিস্টেমে ঘন্টা বাজানোর কাজ করতাম।”….


আমরা এই motivational story থেকে কি শিক্ষা পেলাম?

গল্পটি পড়ে আমরা বুঝতে পারলাম যে, যিনি লোভ করেন তিনি কখনোই উন্নতি করতে পারে না। ব্যক্তিটির কাছে সুযোগ ছিল আবার মন্দিরে ঘন্টা বাজানোর। কিন্তু, তিনি তা করেন নি। ব্যক্তিটির মধ্যে কাজ করে, পরিশ্রম করে খাওয়ার নেশা দেখতে পেলাম আমরা। এর থেকে আমরা বুঝতে পারলাম, জীবনে উন্নতি করতে হলে পরিশ্রম করা দরকার।

কোনো কাজই যে ছোটো নয়- সেটাও আমরা জানতে পারি এই গল্প থেকে। আর সবথেকে যেটা বেশি motivate করে তা হলো- মন্দিরে ঘন্টা বাজানো ব্যক্তিটির খিদে তার কাজের প্রতি। এবং আমরা এটাও দেখেছি যে বড় ব্যবসায়ী হওয়ার পরেও তিনি তার ভালোবাসার কাজ থেকে সরে আসেননি।

অথচ তিনি চাইলেই ঘন্টা বাজানো ছেড়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেন নি। অর্থাৎ, সবশেষে আমরা অনুভব করলাম, তিনি ধৈর্যের সাথে আস্তে আস্তে করে দোকান বাড়াতে থাকলেন। এর থেকে আমরা জানতে পারি- যেকোনো কাজে সফল হওয়ার জন্য ধৈর্যের দরকার। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top